রায়হান আলী, রাণীনগর ,নওগাঁ
নওগাঁর রাণীনগরে ইট ভাটা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি। বুধবার সকালে উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে উপজেলার মেসার্স শাহী ফিলিং স্টেশন প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার শাহ। মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভাটা মালিক, শ্রমিক, পরিবহন চালক ও শ্রমজীবী মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, রাণীনগরে দীর্ঘদিন ধরে সরকার অনুমোদিত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে ইট উৎপাদন করে আসছেন স্থানীয় ভাটা মালিকরা। এসব ভাটায় হাজারো শ্রমিক মৌসুমভিত্তিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। হঠাৎ করে ভাটা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মালিকদের কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়বে।
সমিতির সদস্য আবু বক্কর বলেন, আমরা বহু বছর ধরে আইন মেনে ঝিকঝাক বা হাওয়া প্রযুক্তির ইট ভাটা পরিচালনা করছি। প্রতিটি ভাটায় ২০০–২৫০ জন শ্রমিক কাজ করে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ চালাচ্ছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে ইট প্রস্তুতের সুযোগ না দিলে এসব শ্রমিক ও মালিক উভয়ের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর আমাদের ভাটার সার্টিফিকেট নবায়ন করেছিল। এরপর থেকে বারবার আবেদন করেও নবায়নের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রতি মৌসুমে অভিযান চালিয়ে মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে শুধু ক্ষতিই হচ্ছে না, দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ,সার্টিফিকেট নবায়নের সুযোগ দিয়ে ইট উৎপাদন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা হোক।
সভাপতি আব্দুস সাত্তার শাহ বলেন,দেশজুড়ে লাখ লাখ ভাটা শ্রমিক কাজ করছে। তাদের পেটে লাথি মেরে কেউ উন্নয়ন টিকিয়ে রাখতে পারবে না। সরকার চাইলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট প্রস্তুতের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ভাটা বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়।তিনি আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবো।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ইউএনও’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সমিতির নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির উপদেষ্টা মতিউর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, সদস্য শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। বক্তারা সরকারের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধান ও ইট প্রস্তুতকারকদের জন্য টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।