ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা জান্নাত আলম এশা ছাত্রাবস্থাতেই অনলাইন ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত থাকলেও নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর অনলাইন উদ্যোগ। ছোট এই ব্যবসাকে একদিন বড় করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই তাঁর স্বপ্ন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন অমিত হাসান।
আপনার অনলাইন ছোট ব্যবসা শুরু করার পেছনের গল্পটা কী?
এশা: আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবনে সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল না। তখন ভাবতাম কীভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করা যায়। হাতে তৈরি কিছু পণ্য বানাতে পারতাম, কিন্তু সেগুলো বিক্রির উপায় জানতাম না। পরিচিতদের উৎসাহে অনলাইন ব্যবসার দিকে আসি। শুরুতে কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে সহজ হয়েছে।
কী ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করেছেন?
শুরুতে মেয়েদের পোশাক ও হিজাব দিয়ে ব্যবসা শুরু করি, যা এখনো চালু আছে। পরে নিজে শিখে চুড়ি বানানো শুরু করি, সেটিও এখন আমার নিয়মিত প্রোডাক্টের অংশ।
প্রথম অর্ডার পাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এশা: প্রথম অর্ডার পাওয়ার অনুভূতিটা ছিল খুব আনন্দের। সারারাত জেগে কাজ করেছিলাম। পারিশ্রমিক হাতে পাওয়ার মুহূর্তটা এখনো মনে আছে।
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছেন কি?
এশা: আলাদা কোনো বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি। তবে নিজের স্কিল উন্নয়নে নিয়মিত কাজ করা জরুরি, সেটাই করছি।
ব্যবসা ও পেশাগত জীবন একসঙ্গে সামলাতে কীভাবে এগোচ্ছেন?
এশা: কষ্ট ও ত্যাগ থাকেই। সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।
ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেন?
এশা: প্রোডাক্টের গুণগত মান ও গ্রাহকের চাহিদাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?
এশা: আমি চাই আমার ছোট ব্যবসা একদিন বড় হোক এবং এর মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হোক।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
এশা: ধৈর্য, বিশ্বাস ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে।