আমরা সবাই কম বেশি কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত আছি। কিশোর গ্যাং কিন্তু এমনি এমনি তৈরি হয়ে যায় না। মানুষ জন্ম থেকেই অসভ্য,অমার্জিত,অমানুষ হয়ে আসে না। সে শিখে প্রকৃতি থেকে।চারপাশের পরিবেশ,পরিস্থিতি তার চিন্তা ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে শিখে তার সহপাঠী,খেলার সঙ্গী,পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র থেকে। মানুষের শেখার শেষ নেই। তাকে শিখতে হয় আজন্ম। প্রতিটি নতুন পরিবেশ,পরিস্থিতি,কাজের ক্ষেত্রে আমরা সবাই শিশু। একটি শিশু জন্মের পরে তার চারপাশের পরিবেশের উপর নির্ভর করে শিশুটির আচার-আচরণ,চলাফেরা কেমন হবে। কারন চারপাশের পরিবেশ আমাদের যেভাবে তার দিকে আকৃষ্ট করে অন্য কিছু সেভাবে পারে না। কিশোর গ্যাং তৈরির পিছনে মূল ভুমিকা পালন করে কয়েকটি বিষয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :-পরিবার,বংশীয় পরিচয়,সমাজ। যদি আমরা পরিবার নিয়ে কথা বলি। তবে বলতে হয় যে, পরিবারকে বলা হয় একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার স্থর। শিশু মায়ের কাছ থেকে প্রথম ভাষা শিখে। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির জীবন শুরু হয় কান্নার আওয়াজ দিয়ে।
সে মাতৃদুগ্ধ পান করে ধীরে ধীরে মায়ের কোলে বড় হতে থাকে। সে যখন অনেকটা বড় হয়ে একা একা হাটতে পারে ও কথা বলতে পারে; তখন তার চারপাশে খেলার সঙ্গীদের আর্বিভাব ঘটে। শিশুটি তার চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে আত্মস্থ করতে থাকে। তাই একটি সদ্যজাত শিশু ভবিষ্যতে কেমন হবে। তার অনেকটাই তৈরি হয়ে যায় শৈশবের সময়কাল গুলোতে। আমরা যদি কিশোর গ্যাং তৈরিতে বংশীয় পরিচয়ের ভুমিকার বিষয়ে বলতে চাই। তবে বলতে হবে যে, দেখুন একটা মানুষ কখন অপকর্মে লিপ্ত হয়। যখন তার অপকর্ম ঢাকার লোকবল থাকে। সে যখন বুঝতে পারে দুর্বলের উপর চালিত অত্যাচার,জুলুম,নির্যাতন তাকে কাঠগড়া পর্যন্ত নিতে অক্ষম। তখন সে অপকর্মের অতলে হারিয়ে যেতে থাকে। আপনি যদি একটু খেল করেন আপনার গ্রাম পর্যায়ে। তবে আপনি অবশ্যই দেখতে পাবেন যে, গ্রামে যাদের বংশে অনেক লোকবল আছে, অর্থনৈতিকভাবে মোটামুটি স্বচ্ছল। তারা গ্রামে প্রতিটি ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করে। সেখানে যোগ্য লোকের স্থান নিজ ঘরের কোনে। আধিপত্য বিস্তার কারী বংশের লোক যতই অশিক্ষিত,অজ্ঞানী হোক না কেন তার কথাকেই সমাজে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনেও তারা আধিপত্য বিস্তার করে। সকল ক্ষমতা তাদের কুন্ঠিভুত করে থাকেন। সেই ক্ষমতা বলে সেই বংশ ও গ্রামের মানুষ অন্য সকল লোকদের উপর অন্যায়,অবিচার পরিচালন করে থাকেন। তৈরি হয় কিশোর গ্যাং যারা সকল ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়,রাস্তার পাশে,চায়ের দোকানে, স্কুলের পাশে দাড়িয়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। বিভিন্ন আনাচে কানাচে বসে নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করেন,জুয়া খেলে। কেউ বলতে গেলে বলে তোর বাবার টাকায় খাই নাকি। তুই বলার কে এছাড়াও তার পরিবারের উপর ক্ষেপে গিয়ে তাদের বিভিন্ন ক্ষতি সাধনের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে বিচার দিতে গেলে; তারা তাদের সন্তানের দোষ আরাল করে ভুক্তভোগী পরিবারকে শুনিয়ে দেয় বিভিন্ন কথা। আপনারা সবাই হয়তো বাংলাদেশে কয়েক মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন। যেখানে স্কুলে যাবার সময় মেয়েকে উত্যক্ত করার কারনে। ভুক্তভুগী পরিবার যায় ছেলের পরিবারের কাছে বিচার দিতে। সেখানে আমরা দেখতে পাই ছেলের বিচার না করে। ছেলেটির পরিবার উল্টো মেয়ের মা-বাবাকে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। এই হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা। একটি ছেলে বা মেয়েকে নষ্ট করতে পরিবার অগ্রনি ভুমিকা পালন করে,তেমনি করে বংশীয় পরিচয়। মানুষ ভয়েও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। কারন জানে এদের বিচার হবে না।
এরা যা ইচ্ছে তাই করে বেরায়। যাদের বংশীয় লোকবল বেশি তাদের কথা ও কার্যকলাপ হচ্ছে এই তার জমির পাশ দিয়ে হাটলেও তোমাকে শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু তুমি দুর্বল তোমার কোনো অভিযোগ সাজবে না। তোমার ফসলি জমির মাঝে গরু ছেড়ে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি অপকর্ম করার পর পরিবার ও বংশ তার সাফাই গায়,তার অন্যায় আড়াল করে। তার অপকর্মের পরিমান দিনদিন বাড়তেই থাকে। বর্তমান সমাজের লোকজন অপশিক্ষিত। তারা গুরুজনদের সম্মান করতে জানে না। তারা গায়ের জোরে কাজ করে।
তারা গুরুজনদের শরীরে হাত তুলতেও পিছ পা হন না। শুনুন তবে আজ অন্যের প্রতি অন্যায় করে বলে হাসেন। এই হাসি স্থায়ী নয়,মনে রাখবেন ছেলেকে অন্যায় করতে সাহস জুগিয়েছেন। আপনার প্রতিও অন্যায়ের রেশ আসবে। তখন চোখে মরিচ দিয়ে কান্না করবেন। তাই আসুন নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্মান বজায় রাখতে। এলাকায় বিদ্ধাশ্রম তৈরি হবার আগেই সচেতন হয়ে যাই। সরকারি মহলের নিকট আকুল আবেদন থাকবে। আইনকে আরো কঠোর করে এই সমস্ত কার্যকলাপকে রুখে দিন। দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার চিরতরে মুছে দিতে, একতা বদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান।
ইমন হাওলাদার
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
ইতিহাস বিভাগ (২০২০-২১)