সাকিবুল হাছান
বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা বহুদিন ধরেই রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ আয় এসেছে মাত্র ১০টি দেশের বাজার থেকে, যা বাংলাদেশকে বিপজ্জনকভাবে কিছু নির্দিষ্ট বাজারের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৩৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, ভারত, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড থেকে।
যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক।
চাপ বাড়াচ্ছে শুল্কনীতি
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার বৈচিত্র্য না আনতে পারলে রপ্তানি খাত বড় চাপে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ
র্যাপিড চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, নতুন বাজার ধরতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। শুধু পোশাক নয়, অন্যান্য খাতেও নজর দিতে হবে—বিশেষ করে খাদ্য, কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তিপণ্যে।
ব্যবসায়ীদের মত
বিকেএমইএ সভাপতি ফজলে এহসান শামীম বলেন, “বাজার বৈচিত্র্য ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। সরকারকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা দিতে হবে।”