মো. জাহিদুর রহমান >>
বৈষম্য
বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
পদত্যাগের পর সারা দেশের জনগণ যেন বাক স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ প্রায়
দেড় যুগ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় সারা দেশে সরকারি অফিস আদালত,স্কুল,
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিলো।
প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের আখড়ায় পরিনত হয়। সরকার পতনের পর দেশব্যাপী
আন্দোলনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বেশীরভাগ স্কুল কলেজের প্রধানদের দুর্নীতি ও
অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীরা পদত্যাগ দাবি করতে দেখা গিয়েছে।
আজ বেলা
১২ টায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয়ের সামনে গেন্ডারিয়া স্কুলের
কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সারমিন আক্তার শীলার
পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও শ্লোগান দিতে থাকে। প্রধান শিক্ষক সারমিন
আক্তার শীলার পদত্যাগসহ ৬ দফা অনতিবিলম্বে কার্যকর করার বিভাগীয় কমিশনারের
সাথে দেখা করতে এসেছিলো। শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কথা বলে
শ্লোগান দিচ্ছিলো।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ, সাইফুল স্যারের
পদত্যাগ, মানিক স্যারসহ অন্যান্য শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা,
বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি মুক্ত বিদ্যালয় ও
বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করাসহ ৬ দফা দাবি দ্রুত কার্যকর করার
দাবি জানায়। ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি প্রধান শিক্ষিকা খুব দুর্নীতিপরায়ন। তাঁর
বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বহু বছর গেন্ডারিয়া
স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকায় তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। এমনকি স্কুল
কমিটির সদস্যদেরকেও স্কুল থেকে জোর বের করে দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এতদিন
সাহস করে কেউ কথা বলতে পারেনি। স্কুল ফান্ডের টাকা আত্মসাতসহ ব্যাপক
অনিয়মের কারণে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভাগীয়
কমিশনারের কাছে এসেছে। এতদিন কেন আন্দোলন বা পদত্যাগের দাবী করা হয়নি এ
প্রশ্নের জবাবে ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, এতদিন সাহস পাইনি কোন কথা বলতে। এখন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে সারা দেশে মানুষের মধ্যে সাহস
ফিরে এসেছে সকল অন্যায় অনিয়মের প্রতিবাদ করার। এজন্য আমরা কথা বলার ও
ন্যায্য দাবী আদায়ের সুযোগ পেয়েছি। তাই বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন
অনতিবিলম্বে প্রধান শিক্ষক সারমিন আক্তার শীলার পদত্যাগসহ ৬ দফা কার্যকর
করা।