মামার বাড়ি
ফারহানা আক্তার শারমিন
মামার বাড়ি রসের হাড়ি, পেতে সবে চায়,
মতিউর মিঞার ভাগ্নি-সমাজ মামা বাড়ি যায়।
দেখছে গ্রাম ব্যস্ত চোখে এদিক ওদিক করে,
পদ্মাপারের স্বচ্ছ পুকুর চোখের সামনে পড়ে
আপন মনে গোসল করছেন নানি, হইয়া নিশ্চুপ,
পুকুর দেখিয়া গোসল করিবার সাধ জাগিলো খুব।
দুপুর বেলা পুকুর পাড়ে দাড়িয়ে সারে সারে,
শহরের ঢ্যামরাগুলো সাঁতার নাহি পারে।
কী করিবে কী করিবে ভেবে নাহি পায়,
ভাব দেখাইয়া ছোট ঢ্যামরা ডুব দিতে যায়।
তা দেখিয়া মেঝো ঢ্যামরা হাত ধরিয়া ফেলে,
দুই ঢ্যামরা পিছল খাইয়া পুকুর পাড়ে পড়ে।
বড় ঢ্যামরা হাত পেতে দেয় উপরে তোলার ছলে,
স্রোতের টানে যায় ভেসে যায় তিন ঢ্যামরা জলে।
নাতির লাগি দিলো ঝাপ নানি পরিয়া অর্ধ শাড়ি,
শাড়ির আঁচল আটকে পায়ে; নাতি সাঁতার নাহি পারি!
ডুবিয়া ভাসিয়া পানি খাইয়া পার হইয়া যায় দিন,
পানিতে পড়েছে মতিউলের মা, ভাগ্নিও তার তিন।
কী করিবে কী করিবে ভেবে নাহি পায়,
বুদ্ধি করিয়া সেঝো ঢ্যামরা মামার কাছে যায়।
বাড়ি ফিরে সেঝো ডাকে, মামা মামা তুমি কই?
মামি বললেন, গেছেন মামা আনতে তাজা ইলিশ-রুই
উপায় না পাইয়া মামির কাছে খুলিয়া সবই বলে
নানি-সহ হাবুডুবু খাচ্ছে আমার তিন বোন জলে
ঘটনা শুনে অবাক মামি; আছে তো এখনো প্রাণ?
কিছু হলে মামা তোমার রাখবে না আমার জান!
ব্যস্ত মনে দৌড়ে মামি দিল পুকুরে ঝাঁপ
উপরে উঠিয়া বলল সবাই; বাঁচলাম, বাপরে বাপ!