ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মাজার নয়, সিস্টেমকে ভাঙুন

  • আপলোড তারিখঃ 12-09-2024 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 196557 জন
মাজার নয়, সিস্টেমকে ভাঙুন ছবির ক্যাপশন: ছবি : সংগৃহীত
ad728

মো. ছাব্বির হোসাইন >>


ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটছে। মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে মানুষজন আহতও হয়েছে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভেন্ট খুলেও মাজার ভাঙ্গার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে আমরা কেন এসব মজার ভাঙছি বা মজার ভাঙ্গার পক্ষে কাজ করছি, এটা কি আমাদের উচিত হচ্ছে? আসুন তাহলে জেনে নিই...


রওজা, কবর এবং মাজারের মধ্যে পার্থক্য কী?


কোনো মুসলিমকে যেখানে দাফন করা হয় ওই জায়গাকে ‘কবর’ বলা হয়। হাদিস শরিফে আছে, ‘মানুষের কবরটি হয়তো জান্নাতের একটি বাগান হবে অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত হবে।’ আর বাগানকে আরবিতে ‘রওজা’ বলা হয়। অতএব নবী-রাসূলগণ, আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সাহাবিরা যেহেতু জান্নাতি, তাই তাঁদের কবরকে সম্মানার্থে ‘রওজা’ বলা যায়। আর ‘মাজার’ও একটি আরবি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে, জিয়ারতের স্থান। এই অর্থে শরিয়ত মতে সব মুমিনের কবরই ‘মাজার’, কেননা সব মুমিনের কবরই জিয়ারতের স্থান এবং কবরই জিয়ারত করা হয়ে থাকে।


তবে আমাদের দেশের অলি-বুজুর্গদের কবরকে ‘মাজার’ বলা হয়, যেহেতু সেখানে মানুষ বেশি জিয়ারত করে থাকে।


উল্লেখ্য, শরিয়তে আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.), সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও অলি-নেককারসহ সব মুমিনের কবরেই জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তবে সিজদা করা, সাহায্য চাওয়া ও যাবতীয় কুসংস্কারের উদ্দেশ্যে কবর, মাজার ইত্যাদিতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটা ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। 


ইসলাম কীভাবে এ দেশে এলো?


খ্রিস্টিয় সপ্তম শতক থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে। এ অঞ্চলে ইসলামের আগমন সম্পর্কে জানার জন্য বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস পর্যালোচনা করা আবশ্যক। ইসলামের আবির্ভাবের সময় এ অঞ্চলটি বঙ্গ বা বাংলা নামে পরিচিত ছিল। সে সময় বাংলা বা বঙ্গ অঞ্চলের সীমানা শুধু বর্তমান বাংলাদেশের সীমানা দ্বারাই পরিবেষ্টিত ছিল না। বরং তৎকালীন বঙ্গদেশের সীমানা ছিল বেশ বিস্তৃত। বস্তুত এ বিশাল বাংলা অঞ্চলে কবে ইসলামের আগমন ঘটে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা মুশকিল। তবে কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের সিন্ধু বিজয় গোটা ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের পথ উন্মুক্ত করে।


এ দেশে কোনো নবী-রাসুল ইসলামের সুমহান বাণী নিয়ে আগমন করেননি । ইতিহাস থেকে জানা যায়, একদল সাহাবি আবু ওয়াক্কাস মালিক বিন ওয়াহাব (রহ.)-এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে চীনে আগমন করেন। এরপর একে একে আরব, ইয়েমেন, ইরাক, ইরান, খোরাসান, মধ্য এশিয়া ও উত্তর ভারত থেকে পীর, ফকির, দরবেশ, ওলি-আউলিয়া ও সুফি সাধকদের এ দেশে আগমন ঘটতে থাকে। তবে ১১ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ১৭ শতাব্দী পর্যন্ত এ দেশে ইসলামের সর্বাধিক প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলে জানা যায়।


১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম বিজয়ের আগে খ্রিস্টীয় ১১-১২ শতাব্দীতে যেসব গাউস, কুতুব, সুফি-সাধক এদেশে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—


শাহ সুলতান রুমী (রহ.) (১০৫৩ খ্রি./৪৪৫ হি.) নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে ইসলাম প্রচার করেন। নেত্রকোনার মদনপুরে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


আদম শহীদ (রহ.) (১০৯৯-১১৭৮খ্রি.) বিক্রমপুর, ঢাকা, পাবনায় ইসলাম প্রচার করেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার দরগাবাড়ী গ্রামে একটি প্রাচীন মসজিদের আঙিনায় তাঁর মাজার রয়েছে।


শাহ সুলতান বলখি মাহি সওয়ার (রহ.) বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ সুফি-সাধক ও ইসলাম প্রচারক। সন্দ্বীপ, ঢাকা ও বগুড়ায় ইসলাম প্রচার করেন। বগুড়ার মহাস্থানগড়ে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে। তিনি কখন বাংলায় প্রবেশ করেন তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হয়, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি সামরিক নেতা ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা বিজয়ের আগেই তিনি বাংলায় প্রবেশ করেন।


খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীকে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের স্বর্ণযুগ বলা যায়। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকায় শাসকশ্রেণির সঙ্গে বহু পীর-দরবেশ এ দেশে আগমন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি কর্তৃক বঙ্গ বিজিত হলে ইসলামের শরিয়ত ও মারেফত উভয় ধারার প্রচার ও প্রসার তীব্রতর হয়। মুসলিম বিজয়োত্তর যেসব সুফি-সাধক ইসলাম ও তরিকা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—


শেখ ফরিদ উদ্দিন গঞ্জেশকর (রহ.) (১১৭৪-১২৬৯ খ্রি.) বাংলাদেশের বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও ফরিদপুরে ইসলাম প্রচার করেন। তিনি চট্টগ্রামে শেখ ফরিদউদ্দিন চশমা এবং ফরিদপুরে শেখ ফরিদ নামে সুপরিচিত। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পাঠপাটান জেলায় তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


শেখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) (-১২৭৮ খ্রি.) নারায়ণগঞ্জে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ এবং এর আশপাশে ইসলাম প্রচার করেন। সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়ার দরগাহবাড়ি প্রাঙ্গণে খানকাহ ও মাদরাসাস্থলের সন্নিকটে গোরস্তানে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


সৈয়দ শাহ তুরকান শহীদ (রহ.) (-১২৮৮ খ্রি.) রাজশাহীতে সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারক করেন। রাজশাহী দরগাপাড়ায় তাঁর মাজার রয়েছে। 


সৈয়দ আহমদ তন্নুরী ওরফে মিরান শাহ (রহ.) (-১৩০৩ খ্রি.) ধর্ম প্রচারে বৃহত্তর নোয়াখালীতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে এ সাধকের মাজার অবস্থিত।


সৈয়দ নাসিরউদ্দীন শাহ নেকমর্দান (রহ.) (-১৩০২ খ্রি.) তিনি দিনাজপুর জেলার প্রাচীনতম ইসলাম প্রচারক। ওই অঞ্চলে তিনি সৈয়দ নেকমর্দান বলে পরিচিত। দিনাজপুর জেলার নেকমর্দান গ্রামে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


মখদুম শাহ দৌলাহ শহীদ (রহ.) (-১৩০৭ খ্রি.) ইয়েমেনের অধিবাসী মখদুম শাহ দৌলাহ বৃহত্তর পাবনা জেলার শাহজাদপুর অঞ্চলে আগমন করেন। তিনি বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন এবং সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে পুরনো শাহি মসজিদের পার্শ্ববর্তী কবরস্থানে তিনি শায়িত আছেন।


শাহ মখদুম রুপোশ (রহ.) (১২১৮-১৩৩১ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক। রাজশাহী দরগাপাড়ায় তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


হযরত শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) (১২৩৮-১৩৪৬ খ্রি.) বৃহত্তর সিলেট (শ্রীহট্ট) অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। তিনি পূর্ব বাংলায় ইসলাম প্রচারের প্রধান পথিকৃৎ মহান সুফি। সিলেটে তাঁর মাজার অবস্থিত।


হযরত শাহ পরাণ (রহ.), শাহজালাল (রহ.)-এর ভাগিনা ও শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সিলেট অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় শাহ পরাণের ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। সিলেট শহরের প্রায় ৮ কিমি পূর্ব দিকে সিলেট তামাবিল সড়ক থেকে প্রায় ৩ কিমি ভিতরে সুউচ্চ ও মনোরম টীলায় অবস্থিত হযরত শাহ্পরাণ (র.)- এর মসজিদ ও দরগাহ্।


সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (রহ.) শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম শিষ্য ছিলেন। সিলেটের পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। কুমিল্লার আখাউড়ার খড়মপুর গ্রামে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


শাহরাস্তি বোগদাদি (রহ.) (১২৩৮-১৩৮৮ খ্রি.) ইয়েমেন থেকে হজরত শাহজালালের সঙ্গে যে ১২ জন আউলিয়া এ দেশে আসেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম। শাহরাস্তি বোগদাদি (রহ.) ধর্ম প্রচারে চাঁদপুর অঞ্চলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলাধীন শাহরাস্তি পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামে বিখ্যাত আউলিয়া হজরত রাস্তি শাহ (রহ.)-এর মাজার অবস্থিত।


শাহ বদর আউলিয়া (রহ.) (-১৩৪০ খ্রি.) ১২ আউলিয়ার পুণ্যভূমি বলে খ্যাত বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। ১২ আউলিয়ার মধ্যে বদর আউলিয়াকেই প্রধান হিসেবে সম্মান দেখানো হয়। চট্টগ্রাম বখশীর হাটের কাছে বদরপট্টি বা বদরপটি গলিতে তাঁর মাজার অবস্থিত।


খ্রিস্টীয় ১৫-১৬ শতাব্দীতে যে কয়জন সুফি-দরবেশ ইসলাম ও সুফিবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—


খান জাহান আলী (রহ.) (-১৪৫৯ খ্রি.)। তিনি বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক। বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলীর (রহ.) তৈরি করা ৬০ গম্বুজ মসজিদের পাশেই তাঁর পবিত্র মাজার অবস্থিত।


শাহ আলী বোগদাদি (রহ.) (-১৪৯৮ খ্রি.)। তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। বর্তমানে ঢাকার মিরপুর ১-এ তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


দরবেশ শাহ জামাল (রহ.) জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ইসলাম প্রচারক।


শাহ মোয়াজ্জম দানিশমান্দ ওরফে শাহ দৌলাহ (রহ.) রাজশাহীর বাঘা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। রাজশাহীর বাঘা শাহি মসজিদের পাশে তাঁর মাজার রয়েছে।


সাইয়্যিদ শাহ নিয়ামতুল্লাহ বুৎ-সাকেন (রহ.) ঢাকা নগরীর সন্নিহিত এলাকায় ইসলাম প্রচার করেন। ঢাকার দিলকুশায় তাঁর মাজার অবস্থিত।


সৈয়দ শাহ নূর (রহ.) (১৪৭১-১৫৬৮ খ্রি.) বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। রাজশাহী দরগাপাড়ায় শাহ মখদুম রুপোশ (রহ.)-এর মাজারের পাশে তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে। 


খাজা শরফুদ্দীন চিশতী (-১৫৮৯ খ্রি.) তিনি বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। ঢাকা হাইকোর্টের পাশে তাঁর মাজার রয়েছে। 


খ্রিস্টীয় ১৭-১৮ শতাব্দীতে যে কয়জন সুফি-দরবেশ ইসলাম ও সুফিবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—


আলী শাহান শাহ আদম কাশ্মীরি (রহ.)(-১৬১৩ খ্রি.)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া (আতিয়া) অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। টাঙ্গাইলের বিখ্যাত আতিয়া মসজিদের কাছে তাঁর মাজার শরিফ অবস্থিত।


সৈয়দ শাহ নেয়ামত উল্লাহ (রহ.) (-১৬৬৯ খ্রি.) সপ্তদশ শতকে বাংলায় ইসলাম প্রচারক পীর আউলিয়াদের মধ্যে ছিলেন অন্যতম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ফিরোজপুরে ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ ও তোহখানার পাশে তাঁর মাজার শরিফ অবস্থিত।


শাহ আমানত (রহ.) (-১৭৭৪ খ্রি.) বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। চট্টগ্রাম লালদীঘির পূর্ব পাশে তাঁর মাজার অবস্থিত।


শাহ সুফি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ দায়েম (রহ.) (-১৮০০ খ্রি.) আজিমপুর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই দরবারের অনেক ভক্ত-মুরিদান রয়েছেন। ঢাকা আজিমপুর দায়রা শরিফের মধ্যে তাঁর মাজার রয়েছে।


খ্রিস্টীয় ১৯-২০ শতাব্দীতে যে কয়জন সুফি-দরবেশ ইসলাম ও সুফিবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—


হজরত আলী আবদুল কাদের সৈয়দ শাহ মুরশিদ আলী আল কাদেরি ওরফে মওলা পাক (১৮৫২-১৯০১ খ্রি.)। তিনি পূর্ববঙ্গের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা ও ঢাকা অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসার করেন। ভারত ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় মেদিনীপুর দরগাহ শরিফের অনেক ভক্ত-মুরিদান রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় তাঁর মাজার শরিফ রয়েছে।


শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারি (রহ.) (১৮২৬-১৯০৬ খ্রি.) মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই দরবারের অনেক ভক্ত-মুরিদান রয়েছেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে তাঁর মাজার রয়েছে।


জানশরিফ শাহ সুরেশ্বরী (রহ.) (১৮৫৬-১৯১৯ খ্রি.) শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা। সুরেশ্বর দায়রা শরিফে তাঁর মাজার রয়েছে। 


আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) (১৮৭৩-১৯৫২) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব, ধর্ম প্রচারক, পীর ছিলেন। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর আবু বকর সিদ্দিকীর অন্যতম প্রধান খলিফা ছিলেন। তিনি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার ছারছীনা গ্রামে বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী বিদ্যাপীঠ ছারছীনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়াও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি বহু ইসলামী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে তিনি ব্যাপক অবদান রেখেছেন।


এসব ওলি-আউলিয়ার মাধ্যমে বঙ্গদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসার লাভ করে। তাদের মাধ্যমেই আমরা এদেশে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের মজার রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের মাজার নিয়ে ব্যাপকহারে কুসংস্কার ও অনিয়ম চলছে। যেটা তারা বেঁচে থাকতে কখনোই সমর্থন করেননি বা তারা মারা যাওয়ার পরে এসব করতেও বলেননি। বর্তমানে যারা এসব মাজারের খাদেম বা পরিচালক রয়েছেন তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব অনিয়ম বা ইসলাম যেটা সমর্থন করে না, সেটা করছেন। এখন বিভিন্ন মাজারে গেলে দেখা যায় গান-বাজনা, নাচা-নাচি, এমনকি মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় অনেক মজারগুলোতে। অথচ তারা ইসলামের যে মৌলিক বিষয়সমূহ যেমন, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত রয়েছে তার কিছুই পালন করেন না।


তাই আসুন আমরা অলি আউলিয়াদের মাজার না ভেঙে, মাজারের এসব সিস্টেমকে ভাঙার চেষ্টা করি।


লেখক: কবি, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ admin

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি কাজ করবে?