সাকিবুল হাছান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্তি বাতিলের পর অনিশ্চয়তায় পড়ে যাওয়া রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে আবারও শিক্ষার চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এখন নতুন আশার আলো দেখছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
পাঠদানের অনুমোদন: ফিরছে স্বস্তি ঢাবির অধিভুক্তি বাতিলের পর সাত কলেজ শিক্ষাব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে। ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা, সনদ প্রদান-সবকিছুতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমনকি সাত কলেজের প্রশাসকরাও জানতে পারছিলেন না, কলেজগুলো এখন কার অধীনে চলছে। এই সংকট নিরসনে গঠিত হয় একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। তাদের সুপারিশে সরকার ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক আইন পাস হয়নি, তবে প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনেই পাঠদানের অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে সাত কলেজ এখন থেকে এই নতুন কাঠামোর অধীনেই পরিচালিত হবে।
ভর্তি কার্যক্রম শুরু: জুলাইতেই বিজ্ঞপ্তি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির অনুমোদন পাওয়ায় নতুন করে গতি পাচ্ছে ভর্তি কার্যক্রম। সাত কলেজের প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশোধিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং জুলাই মাসেই আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। ভর্তি কমিটি প্রতিদিন বৈঠক করছে বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আবেদন শেষে আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ঢাবির পরিবর্তে বুয়েটের সহায়তা ভর্তি পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সহায়তা বিষয়ে সাত কলেজ এবার নতুন পথে হাঁটছে। পূর্বে এই সহায়তা দিচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এবার সাত কলেজ কর্তৃপক্ষ বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য আবেদন গ্রহণ, মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশের মতো কাজগুলোতে বুয়েটের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পূর্বের আবেদনকারীদের জন্য ‘অপশন’ ঢাবির অধীনে সাত কলেজে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে প্রেক্ষাপট পাল্টে যাওয়ায় তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আবেদন বাতিল কিংবা একইভাবে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া—যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার থাকবে তাদের হাতে।
ফলাফল প্রকাশেও গতি সাত কলেজের একাধিক বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে চূড়ান্ত বর্ষে মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফল না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী মাস্টার্স ভর্তি নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যেই বাকি ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
আসন ও সিলেবাস অপরিবর্তিত সাত কলেজে এবারও মোট আসন থাকবে প্রায় ২৫ হাজার। বিজ্ঞানে ৮,৬২৭টি, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানে ১০,০১৯টি এবং বাণিজ্যে ৪,৮৯২টি আসন থাকবে। পূর্বে ঘোষিত সিলেবাস ও একাডেমিক কাঠামোও অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অক্টোবরে ক্লাস শুরুর লক্ষ্যে এগোচ্ছে প্রশাসন সবকিছু ঠিকভাবে এগোলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু করতে চায় সাত কলেজ প্রশাসন। অধ্যাপক ইলিয়াস বলেন, “আগের বছর আমরা নভেম্বরের ২০ তারিখে ক্লাস শুরু করেছিলাম। এবার যদি অক্টোবরে শুরু করতে পারি, তাহলে খুব একটা পিছিয়ে পড়বো না।”
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আশাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ জানান, আপাতত সাত কলেজ ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনেই চলবে। আইন পাস হলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে।”