শামসুল আরেফীন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও থেকে দেখা যাচ্ছে কিছু শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের রুমে গিয়ে একজন শিক্ষকের প্রমোশন প্রাপ্তি নিয়ে বাদানুবাদ করছেন। যার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করছেন তিনি নানান কারণেই বিতর্কিত এবং বিগত রেজিমের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড প্রশ্ন এবং আলাপের মধ্যে থাকে নি। কয়েকজন রীতিমতো উপাচার্য মহোদয়কে শাসিয়েছেন। একজনের কন্ঠ থেকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল “ আমরাই আপনাকে এই পদে বসিয়েছি। আপনি নিজের যোগ্যতায় আসেননি”। একই রকমের অসন্তোষ দেখতে পেলাম আমার কর্মস্থল গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কিন্তু গোপালগঞ্জে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি, যেটি চট্টগ্রামে ঘটে গেছে৷
এ নিয়ে ফেইসবুকে নানান প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা যুক্তি দেখছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর এমন পরিস্থিতির দায় প্রফেসর ইউনুসকে দিতে চান, কেননা তিনি অভ্যুত্থানের পরে সরকার গঠন করার পরে বলেছিলেন শিক্ষার্থীরা তার নিয়োগকর্তা। এর ফলশ্রুতিতে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা একধরনের নিয়ন্ত্রণ ও রাজত্ব কায়েম করছেন। এই কথাটির লিটারাল মিনিং ধরে আলোচনা করলে সরকার প্রধান দায় এড়াতে পারেন না। কিন্তু মূল প্রশ্নটা কেউ তুলছে না? প্রশ্নটি হচ্ছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ কেন ঘনীভূত হচ্ছে আর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এসে কেনই বা একজন উপাচার্যকে শুনতে হচ্ছে -“ আমরা আপনাকে বসিয়েছি। নিজের যোগ্যতায় আসেন নি?”
আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাই। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাসনের কাঠামোগত দিকটি একটু বিশ্লেষণ করতে চাই। দেশে চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়—ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়—ছাড়া অন্য কোথাও উপাচার্য নিয়োগ একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে হয় না। যদিও এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও একাডেমিক কাউন্সিল কাগজে-কলমে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাখে, বাস্তবে তা কার্যকর নয়। সিদ্ধান্ত আসে বাইরের শক্তি থেকে—একটি স্পষ্ট টপ-ডাউন প্রক্রিয়ায়। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর। উপাচার্য একজন দিনে দিনে তৈরি হন না; বরং একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে ওঠেন। এই প্রক্রিয়ায় যেমন রয়েছে আদর্শিক অনুগত্যের পরীক্ষা, তেমনি আছে নির্দিষ্ট রকমের জীবনযাপন, সম্পর্ক ও প্রশাসনিক প্যাটার্ন।
সম্ভাব্য উপাচার্যরা সাধারণত শিক্ষক রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসেন—প্রথমে নীল-সাদা-পিংক ঘরানার শিক্ষক সংগঠন, পরে ফেডারেশনের নেতৃত্ব, তারপর প্রশাসনিক পদে (যেমন ডিন, প্রভোস্ট, প্রক্টর) থেকে অভিজ্ঞতা ও অবস্থান তৈরি করেন। পাশাপাশি, শাসকদলের কাছে আদর্শিক আনুগত্যের প্রমাণ রাখতে কেউ কেউ হয়ে ওঠেন নিয়মিত কলাম লেখক—যেখানে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, জিয়াউর রহমানকে ঘিরে লেখা হয় শত শত পৃষ্ঠা। আমি চিনি এমন দুজন উপাচার্যকে—একজন ইউজিসির চেয়ারম্যান হয়েছিলেন, যার পিএইচডিও ছিল না, কিন্তু তিনি তিন শতাধিক রাজনৈতিক কলাম লিখেছিলেন; আরেকজন, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষক, যিনি চার শতাধিক কলামের লেখক ছিলেন উপাচার্য হওয়ার আগে। এইসব রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে চলে মন্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া, একাডেমিক অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তর, এমনকি সাংসদদের প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো। এসব ‘মেকানিজম’-এর মাধ্যমে যখন একজন শিক্ষকের প্রোফাইল ক্ষমতাসীনদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তখন সুযোগ আসে—উপাচার্য পদে বসার। এই প্রক্রিয়ায় সীমাহীন আনুগত্য, জনবল, অর্থ, মন্ত্রী ও পিএসের সুপারিশ এমনকি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাও কাজ করে। অথচ এই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সিন্ডিকেট কিংবা একাডেমিক কাউন্সিলের মতামত কোনো গুরুত্ব পায় না। এর ফলে নিযুক্ত উপাচার্য কেবলমাত্র ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন, অথচ বাকিদের প্রতি জবাবদিহিতার প্রয়োজন বোধ করেন না।
এর ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, অনেক উপাচার্য প্রশাসন চালাতে গিয়ে "ডিভাইড অ্যান্ড রুল" নীতিকে গ্রহণ করেন। যদিও তিনি সর্বোচ্চ প্রশাসনিক অভিভাবক, বাস্তবে তার অভিভাবকত্ব থাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। বিশেষত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাঁরা উপাচার্য হয়ে আসেন, তাদের প্রশাসনিক বাস্তবতা হয় আরও জটিল। বাইরের ব্যক্তি হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে অনেকাংশেই অপরিচিত থাকেন। ফলে তারা দ্রুত প্রশাসন সচল করতে শিক্ষক সমিতি, দলীয় শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের দ্বারস্থ হন। এভাবে এক ধরনের প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে—যেখানে দলীয় শিক্ষকরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সুযোগ-সুবিধা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন, এবং প্রগতিশীল শিক্ষকরা হয়ে পড়েন কোণঠাসা। এমনকি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আলোচনার স্ক্রিনশট উপাচার্যের দপ্তরে নালিশ হিসেবে পৌঁছায়। এতে ঘটে তিনটি মারাত্মক ক্ষতি: (১) নবীন শিক্ষকরা চাকরি হারানোর ভয়ে এবং প্রবীণরা পদোন্নতির আশায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নীরব থাকেন; (২) সমালোচনার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় উপাচার্য সীমাহীন ক্ষমতা ভোগ করেন; এবং (৩) ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হয়ে পড়ে অবিশ্বাসের—কারণ শিক্ষার্থীরা বুঝে ফেলে, তাদের শিক্ষক আর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিনিধি নন, বরং পক্ষবিশেষের আনুগত্যশীল চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। রাষ্ট্রে যদি কর্তৃত্ববাদী শাসন চলে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে—যেখানে একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও চলাচলের স্বাধীনতাও হুমকির মুখে পড়ে।
এর একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়েই বলা যায়—আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতাম, সেই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য (যিনি পরে ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন) প্রায়শই বলতেন, “উপাচার্য চাইলে কী করতে পারে না? ছেলেকে মেয়ে আর মেয়েকে ছেলে ছাড়া সবই করতে পারে।” এই কথাটি কৌতুকের ভঙ্গিতে বলা হলেও, এর মধ্যে লুকিয়ে ছিল উপাচার্য পদে সীমাহীন ক্ষমতা এবং জবাবদিহিতার অভাবের প্রতিফলন। গত এক যুগে ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীনদের আধিপত্যশীল রাজনীতির কারণে কোনো কার্যকর "এন্টি-রেজিম রেজিস্টেন্স" গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হলেও সেগুলো পরিচালিত হয়েছে এমন কৌশলে যাতে রাষ্ট্র কিংবা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান না নিতে হয়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চার মুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারেনি; বরং তা রাজনৈতিক নাটকের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে আবরার, আবু বকর, সাম্যদের মতো শিক্ষার্থীদের রক্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাপ মোচনের দায় মেটাতে হয়েছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেতৃত্ব বাছাইয়েও প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই এটি রয়ে গেছে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশনির্ভর। আগে যেখানে ক্ষমতাসীন একক দলের রেফারেন্সে উপাচার্য নিয়োগ হতো, এখন সেখানে একাধিক দলের সুপারিশ এবং নির্বাচিত ছাত্র সংসদ অনুপস্থিত থাকায় অভ্যুত্থানপন্থী শিক্ষার্থীদের মতামতও যুক্ত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ নিজেই এক বক্তব্যে বলেছেন—“ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতেই ছাত্রদের অনুরোধে আমি এই দায়িত্ব নিয়েছি।” প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কি সত্যিকার অর্থে কোনো গুণগত পরিবর্তন আনতে পেরেছে?
রাষ্ট্রে ফ্যাসিবাদী দমননীতি না থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনের চেহারায় হয়তো কিছুটা নমনীয়তা এসেছে, তবে কাঠামোগত স্তরে খুব বেশি কিছু পাল্টায়নি। উপাচার্য বদলালেও আগের আমলের দলানুভূতির ভিত্তিতে গঠিত শিক্ষক-ছাত্র রাজনীতির পর্ব এখনো অক্ষত রয়েছে। একজন সহকর্মী আমাকে জানান, ফেসবুকে লেখালেখির কারণে তিনি পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন—উপাচার্য তার অভ্যন্তরীণ অনলাইন গ্রুপে ছিলেন না, কিন্তু সহকর্মী দ্বারা স্ক্রিনশট পৌঁছে গেছে তার দপ্তরে। আরেকজন সহকর্মী, যিনি নিজেই অভ্যুত্থানপন্থী, স্বীকার করেছেন—যারা পূর্বতন উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তারাই এখন নতুন প্রশাসনের আশপাশে অবস্থান করছেন। ফলে প্রশাসনের চেহারায় রূপান্তর এলেও চরিত্রে খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি।
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরপরই আমি ফেসবুকে উপাচার্য নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। তখনই বলেছিলাম—যদি কোনো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মানদণ্ড নির্ধারণ না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অভ্যুত্থানপন্থী অবস্থানের ভিত্তিতে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারবেন না। বাস্তবে তাই ঘটেছে। কুয়েট, বরিশালসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যরা ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখনও আগের মতো টেনে-হিঁচড়ে চলছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষতগুলো বহুদিনের, গভীর এবং পুঞ্জীভূত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা কিংবা শিক্ষকতা করতে এসে, ছাত্র ও শিক্ষক—দুই পক্ষই বারবার তাদের ন্যূনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন। একটি হলে সিট পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া নিতে হয়, অন্যদিকে শিক্ষকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রমোশন পেতে আন্দোলন করতে হয়। বিশেষত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষ বা একাডেমিক ভবনের চরম ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ট্রমা এবং বিচারহীনতা। এই অভ্যুত্থানে যেসব শিক্ষক বা প্রশাসনিক ব্যক্তি স্বৈরতান্ত্রিকতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই অক্ষত থেকেছেন। কোথাও কোথাও নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রকৃত বিচার হয়নি। চট্টগ্রাম কিংবা গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এসব জমে থাকা ক্ষোভ ও অবিচারেরই বহিঃপ্রকাশ।
তবুও, শিক্ষার্থীদের প্রতি আমি আন্তরিক আহ্বান জানাতে চাই—আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের অবস্থান ও দায়িত্বের সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা। একজন উপাচার্যকে অবশ্যই প্রশ্ন করা যায়—তাঁর সিদ্ধান্ত, ন্যায়বোধ ও কার্যক্রম সম্পর্কে জবাবদিহি দাবি করা গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু সেই প্রশ্ন যেন কখনও অসম্মানজনক আচরণে রূপ না নেয়। স্বাধীনতার মানে কখনোই যা খুশি তা বলার কিংবা করার লাইসেন্স নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা আসে আত্মসংযম ও দায়িত্ববোধ থেকে। সেই বোধের বিকাশেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
আমার অনুরোধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) প্রতি—দয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচান। আজ তারা নানাভাবে রুগ্ন; বহু প্রতিষ্ঠান কার্যত জীবন্মৃত। চিকিৎসা দরকার কাঠামোগত সংস্কারের, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসের। স্বাধীন সার্চ কমিটির মাধ্যমে উপাচার্য নিয়োগের যে আহ্বান উঠছে, সেটিকে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে কার্যকর করুন। পাশাপাশি সম্মানিত উপাচার্যদের প্রতিও অনুরোধ—আপনারা এমন নেতৃত্ব দিন, যা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে। ১৬ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেসব নেতিবাচক ধারণা উপাচার্যদের ঘিরে তৈরি হয়েছে, তা একমাত্র জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং ক্যাম্পাসে নৈতিক প্রশাসনের উদাহরণ সৃষ্টি করেই দূর করা সম্ভব। যেন একদিন শিক্ষার্থীরা গর্ব করে বলতে পারে—“তিনি আমাদের শিক্ষক, আমাদের অভিভাবক, আমাদের প্রেরণা।”
লেখক: শামসুল আরেফীন
শিক্ষক ও রাজনৈতিক গবেষক
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।