তাজ উদ্দিন
ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের ১৯ বছর পরেও ফুলবাড়ী চুক্তির ৬ দফা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে শিশু -কিশোরদের জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন মৃত্তিকা খেলা ঘরের উদ্যোগে ফুলবাড়ীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাথায় জাতীয় পতাকা বুকে কালো ব্যাচ ধারণ করে ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবসের আলোচনা শেষে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার স্লোগানে স্লোগানে একটি বর্ণাঢ্য র্্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
২৬ আগস্ট সকাল ১০ টায় খেলাঘর জাতীয় পরিষদের সদস্য ও ফুলবাড়ী মৃত্তিকা খেলা ঘরের উপদেষ্টা কমরেড এসএম নুরুজ্জামানের পশ্চিম গৌরীপাড়া বাসভবন থেকে আলোচনা শেষে কমরেড এসএম নুরুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসিম বাবুর নেতৃত্বে র্্যালিটি বের হয়।
মৃত্তিকা খেলাঘরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবসের আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ও ফুলবাড়ী মৃত্তিকা খেলাঘরের উপদেষ্টা উন্মুক্ত কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এসএম নুরুজ্জামান বলেন, কয়লা খনি বিরোধী আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য অনেক অর্থ -বিত্তের প্রলোভন এসেছিল কিন্তু জাতীয় ও জনস্বার্থ রক্ষার এ আন্দোলন থেকে এক পাও সরে আসিনি। এজন্য পরবর্তীতে সব থেকে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি।বহু জাতিক বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জি কর্তৃক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার আসামীও হতে হয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন আমরা ৩ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বসত -ভিটা, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাণ -প্রকৃতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ফুলবাড়ী চুক্তি করেছি বলেই ১৯ বছর পর আজ তোমরা এর সুফল ভোগ করছো। তা না হলে এ অঞ্চল বিশাল এক বিরান ভূমিতে পরিণত হতো! হয়তো তোমরা তোমাদের পিতা-মাতারা অন্য কোথাও উদ্বাস্তু হতো।
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে ৬ দফা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপ্লবী জনতা শহীদ বেদীতে সমাবেত হন। সেখানেও তেল - গ্যাস -খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবন্দর জাতীয় রক্ষা কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক মো.সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও দেশ বরেণ্য অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, মানুষ, প্রাণ -প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোন উন্নয়ন হতে পারে না। ফুলবাড়ীর গণঅভ্যুত্থান বিশ্ববাসীকে উন্নয়নের নতুন দিশা দিয়েছে। তিনি বলেন, ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সরকারকে রাষ্ট্র সংস্কারের মহাপরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হবে।