ইদুল আজহার বাকি আর মাত্র চারদিন। এ ধর্মীয় উৎসবে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে প্রিয় পশু কোরবানি দিতে সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকার একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরু আসছে গাবতলীতে। এখনো বেচাকেনা সেভাবে শুরু না হলেও বেশ আয়েশ করে চলছে দরকষাকষি।
ব্যাপারীদের দাবি, গরুর খরচের বিষয়ে ক্রেতাদের কোনো ধারণা নেই। যে কারণে গরুর দাম কম বলছেন তারা। ক্রেতারা তাদের দুঃখ-ব্যথা বোঝার চেষ্টা করেন না। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আকাশচুম্বী দাম চাচ্ছেন ব্যাপারীরা। এর ফলে দরকষাকষি বেশি হচ্ছে। গরু দেখছেন ক্রেতারা, তবে সেভাবে বেচাকেনা শুরু হয়নি। এবার হাটে ৮০ হাজার টাকার কমে কোনো গরু মিলছে না।
হাটে গরুর দাম চড়া হলেও কোরবানির ইদ উপলক্ষে দেশে গরু-ছাগলের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে পশুর কোনো ঘাটতি না থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এবার কোরবানির ইদ ভালোভাবে করতে পারবেন। গত বছর প্রায় পাঁচ লাখ গবাদিপশু অবিক্রীত ছিল। এ বছর তার সঙ্গে আরও সাড়ে চার লাখ পশু যোগ হয়েছে। আমাদের দেশে চাহিদা এক কোটি ২৯ লাখ পশু, সেখানে আছে এক কোটি ৩০ লাখেরও বেশি।’
ইদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এবারের ইদে মোট ২০টি হাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর মধ্যে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটসহ ৯টি হাট বসাতে চেয়েছিল ডিএনসিসি। এছাড়া ডিএসসিসি চেয়েছিল সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি পশুর হাট বসাতে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনাসহ নানান কারণে অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে আফতাবনগরে হাট বসানো নিয়ে দুই সিটি করপোরেশন দরপত্র আহ্বান করলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় তা বন্ধ আছে।