অনলাইন ডেস্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে তাঁর শাসনকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে বিতর্কিত যুদ্ধবিরতি, বয়স নিয়ে বিতর্ক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্য থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট তাঁর নেতৃত্বকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। এই সমস্ত চাপের মধ্যে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিহার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের ভোট কারচুপি অভিযোগের মোকাবেলাও করতে হচ্ছে তাঁকে।
যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের সম্পর্কের অবনতি
ট্রাম্প প্রশাসন ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বেড়েছে। ছয় মাস আগেও মোদি ও ট্রাম্প একে অপরকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বললেও এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সংকটে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোদির শক্তিশালী নেতৃত্বের দাবি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি তাঁর কাছে কোনো কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে কাজ করছে না।
কৃষক ও স্থানীয় ভোটের ইস্যু
মোদির সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মোদি জানিয়েছেন, দেশের কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থে তাঁকে ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হতে পারে, তবে তিনি প্রস্তুত আছেন। এই বিষয়টি বিহার নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যেখানে বেকারত্বও ভোটারদের প্রধান চিন্তা।
ভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপ
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি পেছনে রেখে মোদি আগামী দিনে চীন ও রাশিয়ার সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন বিন্যাস নির্দেশ করে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। যদিও বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিহার নির্বাচনে মোদির জনপ্রিয়তা ও শক্তি পরীক্ষা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিহারে হার মোদির ব্র্যান্ড ভ্যালুকে প্রভাবিত করবে এবং তাকে নতুনভাবে নেতৃত্ব গড়তে হবে।
সার্বিকভাবে মোদি এখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর ভবিষ্যত ক্ষমতায় টান পড়তে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।