ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রেসক্লাব নয়, এবার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেক্টরের জনগণের সচিবালয়ে সামনে অবস্থান

  • আপলোড তারিখঃ 19-08-2024 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 211368 জন
প্রেসক্লাব নয়, এবার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেক্টরের জনগণের সচিবালয়ে সামনে অবস্থান ছবির ক্যাপশন: ................................................
ad728
মো. জাহিদুর রহমান >>


বিভিন্ন সেক্টরের কর্মচারীদের দাবী ও সুবিধা  আদায়ের লক্ষ্যে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান করছে বিভিন্ন সেক্টরের কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ। 
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়। দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। তাঁর পদত্যাগের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে  ড. মুহাম্মদ ইউনুূসকে প্রধান করে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে গোটা দেশে সকলক্ষেত্রে অনিয়মের আক্ষড়ায় পরিনত হয়েছ। শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর থেকে বিভিন্ন অফিস আদালতে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ব্যানার নিয়ে এতদিন সুবিধা বঞ্চিত কর্মচারীরা অফিস, আদালত, প্রেসক্লাব এমন কি খোদ সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন ও প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। কারো দাবী চাকরী রাজস্ব খাত নিয়ে যাওয়া, কারো বেতন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি।  কারো দাবী এতদিনে খুন গুমে থাকা সজনের ফিরে পাওয়া। আজ সেমবার ১২ টার সময় সচিবালয়ে সামনে এমন কয়েকটি গ্রপকে দাবী আাদায়ের জন্য আন্দোলন করেতে দেখা যায়। 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়: 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন "উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্প" এ মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ৮৫২ জন প্রশিক্ষক, প্রকল্প দপ্তরে কর্মরত ০১ জন হিসাবরক্ষক, ০২ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরসহ মোট ৮৫৫জন জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তর করার দাবী জানিয়ে সচিবালয়ে সামনে অবস্থান করছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে "উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ প্রকল্প" টি নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, দারিদ্র বিমোচন দুরীকরণের লক্ষ্যে আত্মনির্ভরশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জানুয়ারি ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদে অনুমোদিত হয়। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের সকল নিয়োগবিধি অনুসরণ করে প্রকল্প কার্যালয়ে ০১ জন হিসাবরক্ষক, ০২ জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ও মাঠ পর্যায়ে ৬৫২ জন প্রশিক্ষক প্রকল্পে নিয়োগ প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রকল্পটি বিভিন্ন ধাপে জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।

আইজিএ প্রশিক্ষণ প্রকল্পে কর্মরত জনবল আমাদের অর্জিত জ্ঞানের সেরাটুকু বিলিয়ে দিয়ে জুন ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৩,৮১,২৫০ জন নারীকে বিভিন্ন ধরণের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) নারী উদ্যোক্তণ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারী বিভিন্ন কর্মস্থানে কর্মরত রয়েছে। উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত আইজিএ প্রকল্পের কর্মচারীদের বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অর্থ ব্যয় করে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রশিক্ষক/কর্মচারীগণ শুধু প্রশিক্ষণ কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা দপ্তরের নির্দেশিত সকল কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করছে। ফলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কাজে দারুণ গতি এসেছে। কোন কাজ আর ঝুলে থাকছেনা। বাল্য বিয়ের হার কমেছে, নারী ও শিশু পাচারের হার কমেছে, নারীরা আজ আর কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকছেনা। উক্ত প্রকল্পের মোট জনবলের প্রায় ৯০% কর্মচারী নারী। যাদের অনেকেই বিধবা ও স্বামী পরিত্যাক্তণ এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী এবং দরিদ্র পরিবার হতে আসা। এজন্য এসব কর্মচারীদের দাবী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের দাবী মেনে নেয়া ও রাজস্ব খাতের আওতায় নিয়ে যাওয়ার।


বৈষম্যবিরোধী গ্রামপুলিশ সংগঠন:

সারা দেশে গ্রামাঞ্চলে  নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ৪৭০০০ হাজার গ্রামপুলিশ রয়েছে। কিন্তু যেহারে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে সে হারে তাদের সুযোগ সুবিধা ও বেতন কিছুই বৃদ্ধি পায়নি। তারা মাসিক ৬৫০০ টাকা মাসিক বেতন পায় যা এই দুর্মূল্যের বাজারে খুবই সীমিত। এ আয় তাদের জীবনযাপন খবই কষ্টকর। এজন্য তারা সাত দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। সেগুলো হলো: জাতীয় বেতন স্কেল দিতে হবে,  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনা, গ্রামপুলিশকে  পুলিশ কনস্টেবলের সমান বেতন, দফাদারকে পুলিশের এস আইয়ের সমান বেতন,পেনশন, ঝুকি ভাতা,গ্রামপুলিশ হেডকোয়ার্টার, পোশাকের রং পরিবর্তন, ২০০৯ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতনের দাবীতে আন্দোলন করছে।

বৈষম্যহীন কারা মুক্তি আন্দোলন: বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে যেসব সরকারের রোষানলে পড়ে গুম ও কারান্তরিন হয়েছেন তাদের মুক্তির লক্ষ্যে সচিবালয়ের সম্মুখে অবস্থান করছে। তাদের দাবী সন্ত্রাস বিরোধী আইন -২০০৯ বাতিল করা, সকল বন্ধীদের মুক্তি প্রদান, আটককৃত সকলের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, রাষ্ট্র কর্তৃক কোন 
অপরাধীকে গুম ক্রসফায়ার দেয়া যাবে না, ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যাবেনা, সকল আয়নাঘর গুলো প্রকাশ্যে আনতে হবে। ২০১৩ সালের হেফাজতে আন্দোলন  থেকে ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা  আহত ও নিহত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণসহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, এছাড়া কারাগারে সকল বন্দীদের জন্য বৈষম্যহীন ভাবে যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা, স্পেন,ফ্রান্স ইত্যাদি  উন্নত রাষ্ট্রের মতো বন্দীদশায় থাকাকালীন সময়  মাসে অন্তত একবার স্ত্রী ও পরিবারের সাথে অন্তত ৩ ঘন্টা সময় কাটানোর সুবিধা প্রদান। 

আন্দোলনজারীরা সকল পক্ষই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে দাবী আদায়ের আশ্বাস না পেয়ে রাস্তায় অবস্থানের অনড় অবস্থানে থেকে শ্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। সকলের দাবী অচিরেই এই দাবী বাস্তবায়নের।


নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ Bangladesh Shomachar

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি কাজ করবে?