জেলা প্রতিনিধি
সালাম মুর্শেদী, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে চলতি বর্ষা মৌসুমে আমন ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের দাবিতে সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) সকালে আটোয়ারী উপজেলা পরিষদের সামনে কিসমত দাপ ও সুখ্যাতি গ্রামের কৃষকেরা ওই মানববন্ধন করেন৷
জানা যায়, কিসমত দাপ ও সুখ্যাতি মৌজার অসংখ্য কৃষক প্রায় ১০০ একরের বেশি জমিতে আমন ধান চাষ করেন। বর্ষা মৌসুমে ফকিরগঞ্জ বাজার ও কলেজ মোড়ের মধ্যবর্তী তুর্কামনি ব্রীজ দিয়ে কিসমত দাপ, সুখ্যাতি, সৌলাপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার শত শত একর জমির পানি প্রবাহিত হতো। সম্প্রতি প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম, নিষিদ্ধ ঘোষিত আটোয়ারী উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নুল হক (কহিনুর মেম্বার) ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান গোলাপ ওই ব্রীজের চারপাশে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছন।
এরমধ্যে ব্রীজের সাথেই দক্ষিণ পাশে নজরুল ইসলাম বাড়ি ও কৃষক লীগ নেতা জয়নুল হক আদর্শ কলোনি নির্মাণ করেছেন। আর ব্রীজের সাথেই উত্তর পাশে, ব্রীজের সম্মুখে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন কৃষক লীগের নেতা কামরুজ্জামান গোলাপ। যার ফলে তুর্কামনি ব্রীজ দিয়ে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কিসমত দাপ ও সুখ্যাতির বহু কৃষকের রোপিত আমন ধান বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। এই মূহুর্তে বর্ষার পানি নিষ্কাশন না করা হলে শত শত একর জমিতে রোপিত আমন ধান ঘরে তুলতে না পাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এই জন্য তুর্কামনি ব্রীজ দিয়ে যেন পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা করা হয় সেই ব্যাপারে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মানববন্ধনে আগতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
এসময়, তোড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক দলিল উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব চয়েন উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি কফিলউদ্দিন, কৃষক বাবু দাস, সুশান্ত দাস আপন, কাবুল আলম ও আলম সহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজিত ওই মানববন্ধন শেষে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
এনিয়ে কামরুজ্জামান গোলাপ জানান, ব্রীজের সামনের জমিটা আমাদের। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহশিলদারদের মাধ্যমে ওই জায়গাটি তদন্ত করেন। তদন্তে শেষে তাঁরা এখানে কোনো নয়নজলি জমি নাই বলে ঘোষণা করেছিলেন। আমার নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণের পূর্বেই ব্রীজের মুখের সমপরিমানের চেয়ে বড় করে একটি ড্রেন নির্মাণ করেছি৷ আমার ভবন নির্মাণের কারণে যেন পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয় সেই জন্য ব্রীজের তুলনায় ড্রেনটা আরো বড় করে বানানো হয়েছে। এছাড়াও আমার ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকই যায় কিন্তু ব্রীজের পিছনে অর্থ্যাৎ দক্ষিণ দিকে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করায় পানিটা ঠিকঠাক প্রবাহিত হতে পারছেনা৷ ওইদিকে কালিকাপুর এলাকার দু'একটা ব্রীজের সামনে অনেক বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ওই ব্রীজগুলোও দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমার ড্রেনের ভেতর দিয়ে ঠিকঠাক পানি যেতে পারলেও দক্ষিণ দিকের বিভিন্ন সমস্যার কারণে পানিটা ভালোভাবে প্রবাহিত হতে পারছেনা৷ তাই আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছাড়ানো হচ্ছে।
আর ব্রীজের দক্ষিণ পাশের 'আদর্শ কলোনির' স্বত্বাধিকারী জয়নুল হক জানান, আমিও অনেক টাকা ব্যয় করে ব্রীজের পিছনে বড় ড্রেন নির্মাণ করে দিয়েছি৷ তাই পানি নিষ্কাশনের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, আমি একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সেটা তদন্তের জন্য তোড়িয়া ও রাধানগর ইউনিয়ন তহশিলদার এবং সার্ভেয়ারকে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেন তিনি।