ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পিবিআই- এর তদন্তে সুপরিকল্পিত হত্যা- প্রাণ দাস এর মৃত্যু আত্মহত্যা নয়

  • আপলোড তারিখঃ 30-10-2025 ইং |
  • নিউজটি দেখেছেনঃ 33301 জন
পিবিআই- এর তদন্তে সুপরিকল্পিত হত্যা- প্রাণ দাস এর মৃত্যু আত্মহত্যা নয় ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728


দিনাজপুর প্রতিনিধি :


দিনাজপুরের  আলোচিত ও সুপরিকল্পিত হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে

পিবিআই, দিনাজপুর জেলার  অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ  এর  প্রেস ব্রিফিং এ তিনি বলেন- মায়ের আর্তনাদ ও দৃঢ় বিশ্বাস আজ সত্য বলে প্রমাণিত হলো।


প্রাণদাস এর মা -মামলার বাদিনী সারতী রাণী দাস অতি সাধারণ ও নিরীহ গরীব মানুষ। পেশায় দিন মজুরের কাজ করে। একমাত্র ছেলে হত্যার বিচারের জন্য অনেক জায়গায় গিয়েছে কিন্তু অসহায়ের মতো ফিরে এসেছে। কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল সত্য কখনো চাপা থাকে না। পিবিআই দিনাজপুর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।


শ্বশুর বাড়িতে প্রাণ দাস (২৫) মারা গেলে তার শাশুড়ী জোসনা রানী (৪৫) ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে বীরগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে লিখিত সংবাদ প্রদান করলে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বীরগঞ্জ থানার অপমৃত্যু মামলা নং-১৭, তারিখ-২৫/০৪/২০২৫  ইং তারিখে ইউডি মামলাটি রুজু হয়।


মৃত প্রাণ দাসের মা সারতী রাণী দাস গত ৩১/০৭/২০২৫ ইং তারিখ পিবিআই অফিসে ইউডি মামলার কপি নিয়ে হাজির হয়ে জানায় যে, "আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু তার ছেলের শ্বশুরবাড়ির সবাই বলে প্রাণ দাস  বিষ খেয়েছে। আমার বিশ্বাস হয় না, সে বিষ খাবে। কেন বিষ খাবে? তারা তাড়াহুড়ো করে প্রাণ দাসের গোসল করায়। থানায় ইউডির সংবাদ আমরা দেইনি। কোথাও কোন সহযোগিতা পাই নি। তাদের পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর পরামর্শে পিবিআই অফিসে এসেছি। ছেলে হত্যার সঠিক তদন্ত চাই।"


বাদিনীর দেয়া লিখিত অভিযোগের বিষয়টি পিবিআই দিনাজপুর অফিসে জিডি করে এসআই মোঃ মেহেদী হাসান এর নেতৃত্বে কয়েকজন চৌকশ সাব-ইন্সপেক্টরের সমন্বয়ে একটি টিম করে সেই ইউডি মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। ছায়া তদন্তে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত প্রমাণাদি সংগ্রহ করে পিবিআই দিনাজপুর সিদ্ধান্তে উপনিত হয় যে, ডিজিস্ট প্রাণ দাসকে নিশ্চিত হত্যা করা হয়েছে, এটা কোন বিষ খাওয়ার ঘটনা নয়। নিজেরা বাঁচার জন্য আসামীরা নাটক সাজিয়েছে। ঘটনার দিন প্রাণ দাসের শ্বশুর শাশুড়ী ও  তার স্ত্রী পুজা এবং পুজার ভাই দিপু মিলে তাকে হত্যা করে। সেই হত্যা কান্ডকে ধামাচাপা দিতে বিষ খাওয়ার ঘটনা সাজিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে।


পরবর্তীতে ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ ডিজিস্টের মা সারতী রানী দাস (৫৪) বীরগঞ্জ থানায় ০৪(চার) জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। এজাহারনামীয় আসামীগণ হলেন ১। দিপু রায় (২২), পিতা-নিপেন্দ্র নাথ রায় ২। পূজা রাণী দাস (১৯), পিতা-নিপেন্দ্র নাথ রায় ৩। জোসনা রানী (৪৫), স্বামী-নিপেন্দ্র নাথ রায় এবং ৪। নিপেন্দ্র নাথ রায় (৫০), পিতা-মৃত ক্ষেত্র বর্মন, সকলের সাং-ডাকেশ্বরী, থানা-বীরগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই দিনাজপুর জেলার অ্যাডিশনাল ডিআইজি জনাব মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় আবেদন করলে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার স্মারক নং-পিবিআই/মামলা/২০২৫/৭১৭৮/ক্রাইম ওয়েস্ট, তারিখ-২০/১০/২০২৫ ইং মূলে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই দিনাজপুর জেলার উপর অর্পিত হয় এবং মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পিবিআই দিনাজপুর জেলার এসআই (নিঃ) মোঃ মেহেদী হাসানকে নিয়োগ করা হয়। যাহা দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার মামলা নং-১৪, তারিখ-২০/১০/২০২৫ ইং, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০। জিআর-২২৯/২০২৫ (বীরগঞ্জ)।


পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল মহোদয়ের এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং পিবিআই দিনাজপুর জেলার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোঃ মাহফুজ্জামান আশরাফ মহোদয়ের সার্বিক নেতৃত্বে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মেহেদী হাসান সহ পিবিআই দিনাজপুর জেলার একটি চৌকশ টিমের তৎপরতায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় এজাহারনামীয় ০৪ (চার) জন আসামিকে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানাধীন ডাকেশ্বরী গ্রামের নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া বিজ্ঞ আদালতের আদেশক্রমে গ্রেফতারকৃত এজাহারনামীয় ১নং আসামী দিপু রায় এবং ২নং আসামি পূজা রানী দাস দ্বয়কে ২ দিনের পুলিশ রিমান্ডে  এনে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের  রহস্য উদঘাটিত হয়। 

২নং আসামী পূজা রানী দাসের পরকীয়ার কারণে সৃষ্ট দাম্পত্য কলহ ও অসন্তোষের জের ধরে অন্যান্য আসামীগণসহ পরিকল্পিতভাবে প্রাণ দাস (২৫)-কে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। 

গত ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখ আসামী দিপু রায়ের স্বীকারোক্তি মোতাবেক দিপু রায় এর শয়ন ঘর থেকে ইট তৈরীর ফার্মা এবং তার ব্যবহৃত খাট জব্দ করা হয়। একই দিনে ১নং আসামী দিপু রায় বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।


পিবিআই এর তদন্ত তৎপরতার কারনে বাদীনির ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে দুর্গম পথ সুগম হলো বলে স্থানীয় লোকজন মনে করছে।

বিষয়টি বর্তমানে টক অব দ্যা টাইমে পরিনত হয়েছে।



নিউজটি পোস্ট করেছেনঃ admin

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
notebook

ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি কাজ করবে?