রুহুল আমিন শাহিন, স্টাফ রিপোর্টার
বগুড়ার
শাজাহানপুর উপজেলার পাততেখুর এলাকায় ২৮শে জুন শুক্রবার এই ঘটনার সূত্রপাত।
সরজমিন দেখা যায় দুইজন কাজের লোককে সঙ্গে নিয়ে মনতাজ তার পছন্দের একটি
জায়গায় কবরটি খুঁড়ছেন। তাকে ঘিরে উৎসুক মানুষ জড়ো হয়ে কবর খোঁড়ার দৃশ্য
দেখছেন।
কেন তিনি জীবিত
অবস্থায় কবর খুঁড়ছেন জানতে চাইলে বলেন, আমি আলামত পেয়েছি, এজন্য কবর
খুঁড়ছি। কিসের আলামত পেয়েছেন জানতে চাইলে চুপ করে থাকেন। বারবার জানতে
চাইলে ক্ষেপে বলেন, ‘আল্লাহর কসম আর একটি কথাও বলবো না।’ পুরো ঘটনা জানতে
আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একবার বলে উঠলেন ভাই পাগলা পীরের সঙ্গে আমার দেখা
হয়েছিল। দুইরাত আমার সঙ্গে থেকেছে। রাতে এই এলাকা ঘুরেছে। তিনি আমাকে কবর
খুঁড়তে বলেছেন। এজন্য আমি আমার পছন্দের জায়গায় কবর খুঁড়ছি।
মনতাজ
উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার আব্বা কবর খুঁড়ে রাখছেন। আবার
বালি দিয়ে পূরণ করে দিবেন। মৃত্যুর পর তাকে যেন এই স্থানে কবর দেয়া হয়
সেজন্য এ কাজ করছেন।’
উৎসুক মানুষ জানান, মনতাজ একজন
পীরভক্ত মানুষ। সমাজের কারও সঙ্গে তার তেমন মেলামেশা নেই। ঈদের দিন বিকালে
পাশের ঈদগাহের মাঠে গিয়ে একাই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এলাকাবাসী আরও বলেন,
মনতাজ উদ্দিন শুধু এক ওয়াক্ত (ফজরের) নামাজ পড়েন। তিনি ছোটবেলা থেকে খালি
পায়ে চলাচল করেন এবং শুধু পুকুরে গোসল করেন। মনতাজ একজন আধ্যাত্মিক মানুষ
হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
এ বিষয়ে আশেকপুর ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান হয়রত আলী মুঠোফোনে জানান, মৃত্যুর আগেই কবর খুঁড়ে রাখার
বিধান আছে কি আমার জানা নাই। তবে ওই ব্যক্তি যদি অছিয়ত করে তবে আমরা তার
মৃত্যুর পর ওই স্থানে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করবো। তিনি আরও বলেন, কবর খোঁড়া
বন্ধ করে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করছি।
জীবিত অবস্থায়
কেউ নিজের কবর নিজে খুঁড়ে রাখতে পারবে কিনা এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মুহাম্মদ মোখলেসুর
রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ইসলাম এমন বিষয়কে কোনোভাবেই সমর্থন করে
না। পবিত্র কোরআনে সুরা লোকমানের শেষ আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন ‘কে কোথায়
কীভাবে মৃত্যুবরণ করবে, কোথায় কবর হবে তা কেবলমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
সুতরাং কারও মৃত্যুর সময়, কবর নির্দিষ্ট করা কবীরাহ গুনাহ।
তিনি আরও বলেন, অগ্রিম কবর খোঁড়ার নজির আল্লাহর রসূলের সময় ছিল না, সাহাবাদের সময়ও ছিল না।