মো. শাওন
ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের আশেপাশে রিক্সা চালায় এক বৃদ্ধ। সকাল থেকে সন্ধ্য নিরবধি ঘুরতে থাকে রিক্সার চাকা। চাকা শুধু জীবিকার জন্য নয়, ঘুরে এক বাবার স্বপ্নের জন্য। তার নাম নুরুল ইসলাম। বয়স পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই, কাঁধে গামছা, মুখে ঘাম, চোখে ক্লান্তি তবুও চোখের কোণায় আশার আলো। নুরুল ইসলাম নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি। কৈশোরেই সংসারের ভার কাঁধে নিতে হয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তার একমাত্র ছেলে রিফাতকে মানুষ করতেই হবে। সকালে রিকশা চালানো শুরু করেন, দুপুরে দুইটা রুটি আর এক গ্লাস পানি দিয়েই তাঁর লাঞ্চ। তারপর আবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যাত্রী টেনে ঘরে ফেরেন। রিফাত গ্রামের স্কুলে পড়ে। সে দারুণ মেধাবী। বাবার কষ্ট দেখে সে কখনো পড়াশোনায় ফাঁকি দেয় না। সে জানে তার লেখাপড়ার পেছনে যে ঘাম ঝরে, তা শুধু ঘামের জল নয়, সেখানে স্বপ্ন লেগে আছে।
একদিন এক ভদ্রলোক নুরুল ইসলামের রিকশায় উঠলেন। রাস্তায় যেতে যেতে গল্প জুড়ে দিলেন। জানলেন নুরুলের জীবনসংগ্রাম, জানলেন রিফাতের কথা। তিনি অবাক হয়ে বললেন, “আপনার মতো বাবারাই প্রকৃত নায়ক।” পরদিন সেই ভদ্রলোক একটি সংস্থা থেকে রিফাতের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। তারপর একটু হালকা হলো রিফাতের সংগ্রাম। নুরুল সাহেবের পরিশ্রম। সময় বদলেছে। রিফাত এখন শহরের নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আর এত রিক্সাচালক বাবার মুখে ক্লান্তির চেয়ে গর্ব অনেক বেশি।